Uncategorized

Discovery চ্যানেল-এ বিয়ার গ্রিলসের Man Vs Wild

Discovery চ্যানেল-এ বিয়ার গ্রিলসের Man Vs Wild সার্ভাইভেল-এর একটা এপিসোডে দেখেছিলাম,

বিয়ার গ্রিলস আফ্রিকার কোনো একটা জঙ্গলে সার্ভাইভ করতে করতে এক উপজাতীর দেখা পায়, যারা কিনা এখনো আদিম স্টাইলে জীবনযাপন করে।

গভীর জঙ্গলে ঘর বানিয়ে বসবাস করে। এখনো তীর-ধনুক-বল্লমের দ্বারা পশু শিকার করে খায়। পড়নে গাছের ছাল, লতা-পাতা। তাদের জীবন ব্যবস্থা পুরোটাই প্রকৃতি উপর নির্ভরশীল।

মোটকথা, তাঁরা এখনো আধুনিক সভ্যতার অনেক বাইরে। তাদের দেখে আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছিল, তা হল, –“এরা তো জানে না আল্লাহ্ একজন। নবী-রাসূল, কুরআন-হাদীস, মসজিদ-মাদ্রাসা, নামাজ-রোজা-হজ্জ-যাকাত কিছু জানে না। ইসলামের বাণী তো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তাহলে হাশরের দিন তাদের বিচার কেমন হবে?”

যখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে তখন তো তারা বলবে, –“আমাদের কাছে কোনো বার্তাবাহক আসেনি। ‘ইসলাম’ শব্দটাই আমরা কখনও শুনি-ই নাই, মানবো কোথা থেকে?”

অথবা, কিছু সন্তান জন্মগ্রহণ করে যারা কিনা জন্ম থেকেই অন্ধ, বোবা, কালা হয়ে জন্মায়। জন্মলগ্ন থেকেই চোখেও দেখে না, কানেও শোনে না আবার কথায়ও কইতে পারে না। তারমানে দুনিয়াতে আলো, শব্দ, রং বলতে কিছু আছে তারা সেটা জানেই না।

সুতরাং ‘আল্লাহ্ একজন, নামাজ-রোজা ফরজ’ এইকথা গুলো তাদেরকে বুঝানো কি করে পসিবল? তাহলে শেষ বিচারের দিন তাদের বিচারটা হবে কি করে? তাদের তো শ্রবন-দর্শন ইন্দ্রিয়গুলাই ছিল না।

কিয়ামতের দিন তাদের বিচার বা হিসাব নিকাশ হবে একটা চমৎকার প্রক্রিয়ায়।

আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘আলিমুল গাইব’ বা ভবিষ্যতের খবর তিনি জানেন। তিনি খুব ভাল করেই জানতেন যদি তাদের (জঙ্গলবাসীদের) কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতো তারা কি সেটা মানতো কি মানতো না। জন্ম থেকে বোবা-কালা লোকটাকে যদি দৃষ্টি-শ্রবন শক্তি দেয়া হতো তবে কি সে মুত্তাকী হতো কি হতো না। উলঙ্গ পাগলকে যদি সুস্থ মস্তিষ্ক দেয়া হতো সে কি আল্লাহ্ ভীরু হতো কি হতো না।

তারা সৎকর্মশীল হতো না অসৎকর্মশীল হতো সেটা তো আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। সেই ইলমে গাইবের ভিত্তিতে আল্লাহ্ এইসকল জঙ্গল বাসীদের জান্নাত বা জাহান্নামে পাঠানোর ফায়সালা দিবেন।

তখন নিজেদের বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে বাস করা লোকেরা এক্সকিউজ শো করবে, বলবে– “আল্লাহ্, আমাদের কাছে যদি কোনো রাসূল যেত তবে আমরা অবশ্যই তোমার রাসূলের কথা মান্য করতাম। আমাকে এখন জাহান্নামে পাঠানো হচ্ছে কেন?”

বোবা-কালা-অন্ধ লোকটা বলবে, –” আমাকে যদি দৃষ্টি-শ্রবন শক্তি দেয়া হত, আমি যদি চোখে দেখতাম, কানে শুনতাম তবে অবশ্যই আপনান রাসূলের কথা মানতাম। আমি তো সেই সুযোগটা পাইনি। আমাকে এখন জাহান্নামে পাঠানো হচ্ছে কেন?”

পাগল লোকটা বলবে, –“আল্লাহ্, আমাকে যদি সুস্থ মস্তিষ্ক দেয়া হত তবে আমি আপনার রাসূলের সব কথা মানতাম। আমি মুত্তাকি হতাম। আমাকে এখন জাহান্নামে পাঠানো হচ্ছে কেন?”

তখন আল্লাহ্ তাদের ইন্সট্যান্ট বিচার করবেন। তখন আল্লাহ্ বলবেন,

“অন্যদের কাছে তো রাসূল পাঠিয়েছিলাম, এখন তোমাদের বলছি তোমরা যাও, জাহান্নামে লাফাও। আল্লাহ্’র ফরমান শুনে জাহান্নাম থেকে একটি গ্রীবা উচুঁ হবে।

আল্লাহ্’র এই নির্দেশ শোনা মাত্র সৎ প্রকৃতির (জঙ্গলবাসী, পাগল, বোবা-কালা-অন্ধ) লোকেরা দৌঁড়ে জাহান্নামে লাফিয়ে পড়বে। কিন্তু জাহান্নাম তাদের জন্য শীতল হয়ে যাবে।

আর তাদের মমধ্যে অসৎ প্রকৃতির লোকেরা বলবে, –“আল্লাহ্, জাহান্নাম থেকে বাঁচবার জন্যই তো আমরা এই ওযর পেশ করেছি।”

তখন আল্লাহ্ বলবেন, –” যেখানে স্বয়ং আমি তোমাদেরকে নির্দেশ করেছি কিন্তু তোমরা আমার কথা মানছো না, তখন আমার রাসূলদের কথা কি করে মানতে? এখন তোমাদের জন্য ফায়সালা এটাই যে তোমরা জাহান্নামী।”

আল্লাহ্’র এইরকম যুক্তিপূর্ন বিচারে স্বাভাবিকই কোনো ওযর পেশ করার মত কোনো পথ থাকবে না।

Instant Jugdement of Allah | হাসান শুভ

.
তথ্যসূত্রঃ- ‘আমি রাসূল পাঠানো না পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না’ (সূরা বনি ইসরাঈলঃ-১৭ এর ব্যাখ্যা)। ডঃ মুজিবুর রহমান কর্তৃক অনুবাদকৃত ‘তাফসীর ইবনে কাসির’, খন্ডঃ-১৩, পৃষ্ঠাঃ ৩২৫-৩৩৭
.
বিঃদ্রঃ- ৩২৫-৩৩৭ মোট ১২ পৃষ্ঠার বিস্তারিত আলোচনা থেকে এখানে শুধুমাত্র বিষয়বস্তুর সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment

%d bloggers like this: