স্বাগত তোমায় আলোর ভূবনে

লেখক আব্দুল মালিক আল কাসিম

অনুবাদক শরীফ মুহাম্মদ

প্রকাশক রুহামা পাবলিকেশন্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৮৪

মুদ্রিত মুল্য ৳ ২২০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৮০.০০(-18% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি গল্প

স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে

একদিনের কথা। আমি আর আমার এক সহকর্মী রাস্তার পাশে টহল দিচ্ছি—এমন সময় হঠাৎ বিকট একটি শব্দ কানে আসে। দ্রুত শব্দের উৎসের দিকে দৌড়ে যাই। খানিকটা দূরে দুটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। চোখের পলকে আমরা ঘটনাস্থলে হাজির হই। নিকটবর্তী ক্যাম্পে ফোন করে আমরা দুজন উদ্ধার কর্মে লেগে যাই। গা শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। একটি কারের দুজন যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া দরোজা ভেঙ্গে অনেক কষ্টে তাদের গাড়ি থেকে বের করে আনি। রাস্তার একপাশে তাদের শুইয়ে রেখে অন্য গাড়িটির দিকে মনোযোগ দিই। আমরা যাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে কারের একমাত্র আরোহী চালক। বাহু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে তার হাত দুটি। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা।

তাকে রেখে আমরা দ্রুত মুমূর্ষু লোক দুটির নিকট ফিরে আসি। রক্তে ভিজে গেছে তাদের পোশাক। চোখগুলো যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। যন্ত্রণায় ডাঙ্গায় তোলা মাছের মত তড়পাচ্ছে কিছুক্ষণ পরপর। কাছের হাসপাতালে ফোন করা হয়েছে। একটু পরই চলে আসবে অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু তাদের জখম মারাত্মক। বেঁচে থাকার আশা নেই বললেই চলে। আমার সহকর্মী তাদের কালিমার তালকিন করার চেষ্টা করে—

লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ

আশ্চর্য কাণ্ড! তালকিনে কান না দিয়ে উচ্চ স্বরে গান ধরে তারা! মুখ থেকে ছলকে বেরুচ্ছে রক্ত। গানের কলিতে কাঁপছে রক্তাক্ত ঠোঁট। লাল জিহ্বা বেরিয়ে আসছে একটু পর পর। জঘন্য এই অবস্থা দেখে ভয়ে কেঁপে ওঠে অন্তরাত্মা। আমার সহকর্মী বেশ সাহসী। মুমূর্ষু মানুষের অবস্থা সে ভালোই বুঝতে পারে। সে বারবার তালকিন করতে থাকে। আমি নির্বাক চেয়ে থাকি। এমন দৃশ্য জীবনে কখনো দেখিনি। এমনকি কোনো মুমূর্ষু মানুষের অন্তিম অবস্থা কাছ থেকে দেখার সুযোগও আমার এই প্রথম।

আমার সহকর্মী যতই কালিমার তালকিন করে, তারা শোনে না। আপন মনে গাইতে থাকে। কোনো ফায়েদা হয় না তালকিনে। দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসার শব্দ শোনা যায়। ক্রমশ নিচু হয়ে আসে তাদের গানের আওয়াজ। একসময় শোনা যায় ফিসফিস ধ্বনি। একজনের দেহ হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে ওঠে—পরক্ষণেই নীথর হয়ে যায় চিরদিনের জন্য। দ্বিতীয় জনও একই পথ ধরে খানিক পরেই।

লাশ তিনটির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা ক্যাম্পের দিকে রওনা হই। আমার সহকর্মীর মুখে বিষাদের ছায়া। গভীর এক ভাবনায় ডুবে আছে সে। ফেরার পথে পুরো সময়টা জুড়ে আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে বিষণ্ন এক নীরবতা। ক্যাম্পে ফিরে একটু স্বাভাবিক হয়ে প্রথম মুখ খুলে সে—‘মানুষের মৃত্যু কখনো ভালো হয় আবার কখনো বেশ খারাপ হয়। আজকের মৃত্যু দুটি খারাপ হওয়ার আলামত নিজের চোখে আমরা দেখলাম। মানুষ সারা জীবন যে কাজে নিবিষ্ট মনে নিমগ্ন থাকে—মৃত্যুর বিভীষিকাময় মুহূর্তে এসেও দেখা যায় কঠিন যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে সে একই কাজটিই করে বসে।
***
(গল্পাংশ)

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই