3% ছাড় !

তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে

৳ 150.00 ৳ 145.00

লেখকের কথা থেকে –
““এটি আমার তুরস্কের সফরনামা নয়, বরং ইস্তাম্বুলের সফরনামা। আমাদের হৃদয়ের যা কিছু সম্পর্ক তা প্রত্যক্ষভাবে তুরস্কের সঙ্গে নয়, ইস্তাম্বুলের সঙ্গে, এক সময় যার নাম ছিল কনস্ট্যান্টিনোপল, নবুয়তের পাক যবানে যা উচ্চারিত হয়েছে ‘কুসতুনতুনিয়া’ বলে। তিনি (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) তো নিজের থেকে কিছু বলেন না, যা বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর আদেশে বলেন। আমাদের প্রীতি ও সম্প্রীতি নিছক তুরস্কবাসীর প্রতি নয়, সেই তুর্কীজাতির প্রতি যারা ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় ছিল ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর প্রহরী বা পাসবান। আমাদের প্রাণের টান সেই ভূ-খন্ডের প্রতি, একসময় যার পরিচয় ছিল তুর্কিস্তান। তাই মানুষ বলে তুরস্ক, আমাদের অন্তরে প্রতিধ্বনিত হয় ‘তুর্কিস্তান’!!””

Category:

Description

বইঃ তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে
লেখকঃ আবু তাহের মিসবাহ
প্রকাশকঃ দারুলকলম
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৫০ টাকা মাত্র
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩০৭
রিভিউ লেখক : সাকিব মুস্তানসির

বিষয়ঃ লেখকের তুরস্কের সফরনামা

[রিভিউ]

সফরনামার প্রথমে দীর্ঘ একটা ভূমিকা ! এতো বড় ভূমিকা দেখে অনেকের বিরক্তি আসতে পারে; তবে আপনি যখন পড়া শুরু করবেন তখন মনে হবে ভুমিকাটা নেহাত ছোট! প্রাঞ্জল বাক্যবিন্যাস ,আদীব হুজুরের নিজস্ব অতুলনীয় অনুপম শব্দস্রোত সাথে ঝরঝরে প্রস্ফুটিত শুভ্র হাস্নাহেনারর মতো উপমার সমাহার। ঝর্নাধারার মতো কুলকুল রবে বয়ে চলে এই সফরনামার প্রতিটা পরিচ্ছেদ। অলঙ্ঘনীয় তার আকর্ষন তেজস্বী তার গতিধারা। অবর্ণনীয় ভালোবাসায় আচ্ছন্ন করে রাখে পাঠককে।

লেখক “ তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে” গিয়েছিলেন। কারণ তুরস্কের প্রতি লেখকের কোন অনুরাগ নেই। তুর্কিস্তানের সাথে লেখকের অসীম প্রেম। এই প্রেম ইস্তাম্বুলের প্রতি। ইসলামী খেলাফতের সর্বশেষ রাজধানীর প্রতি এই ভালোবাসা। লেখক তুরস্কের পথে হেটে হেটে কন্তুস্তনিয়াকে খুঁজে ফিরেছেন। প্রায় ৫৫০ বছর সমস্ত পৃথিবী শাসন করেছে যে সালতানাত তাঁদের পুর্বপুরুষের বীরত্বগাঁথা , বিজয়ের গল্প আর পরাজয়ের কালো দিনগুণে নতুন প্রজন্মকে হারিয়ে যাওয়া অতীত স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পূর্বসূরিদের পথে হাটার প্রেরনায় উদ্দীপ্ত করতে চেয়েছেন ফলে মাত্র পাঁচ দিনের সফরনামা দিনশেষে শুধুমাত্র একটা সফরনামা না হয়ে ইতিহাসের মূল্যবান খনিতে পরিণত হয়েছে।

“ লেখক তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে” বইটিকে তিনটা অনুচ্ছেদে ভাগ করেছেন যার অধীনে অসংখ্য সাবটাইটেল সূচীপত্রে চিহ্নিত করেছেন। আসলে এগুলোকে সাব টাইটেল না বলে একেকটা পরিপূর্ন বিষয় বলা যায় যার প্রত্যেকটা নিয়েই আলাদা অনুচ্ছেদ লেখা সম্ভব ছিল। লেখার সাবলীলতা আর পাঠকের পাঠের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে লেখক চমৎকার পথে হেটেছেন। সাব টাইটেল আলাদা করে চিহ্নিত বা হাইলাইট না করে প্রবাহমান নদীর মতো গল্প বলে গেছেন। পুঁতির মালার মত একটার পর একটা পুঁতি গেঁথে মালা সাজিয়েছেন। মাঝে কোনরূপ বিরতির প্রয়োজন হয়নি। পাঠকও পড়ার সময় বিরতিহীন পাঠের অনন্দ পায়। বইয়ের শেষাংশে সুন্দর সুন্দর কাব্যিক সাবটাইটেল করে পৃষ্ঠা সংখ্যা চিহ্নিত করে দিয়েছেন মাত্র।

বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে সফরনামার সাথে প্রাসঙ্গিক কথামালা সাজিয়েছেন। যেখানে সফরের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা আকুতি ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক হিসেবে তুর্কিস্তানের ইতিহাস, অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের রূপরেখা দেখানোর প্রয়াস পেয়েছেন। পাশাপাশি সফর কি কারনে করা উচিৎ এবং আল্লামা ইকবালের স্পেন সফর, আল্লামা তকি উসমানির তুরস্ক সফরের উপলব্ধি পাঠকের মনে রেখা টেনে দিয়েছেন। লেখক বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় সাজিয়েছেন সফরের প্রাক প্রস্তুতির পাশাপাশি সফর সাথীদের পরিচিতি যাত্রাপথ, যাত্রাপথে ঘটা নানা ঘটনা দিয়ে। যেখানে প্রতি পড়তে পড়তে খিলাফতের হারিয়ে যাওয়া শেষ রাজধানীর প্রতি লেখকের আবেগ পাঠকে বারবার উষ্ণ করে। তুরস্ক সফর থেকে যাত্রাপথের এই অংশটুকুও কম মোহনীয় নয় । তৃতীয় অধ্যায়টাই বইয়ের মূল আকর্ষণ ! বইয়ের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বিস্তৃত হয়েছে এই অধ্যায়ে।

তুর্কিস্তান! ইউরুপে ইসলামের প্রবেশপথ। যার বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী স্বয়ং রাসুল সা. করেছিলেন। যেই সেনাবাহিনীকে ভাগ্যবান বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এতো এমন একটা সেনাদল যার সেনাপতি মাত্র বিশ হাজারের একটা বহর নিয়ে দুই লাখরও বেশি খৃস্টান যোদ্ধাদের বিপক্ষে দাড়িয়ে বীরদর্পে ঘোষণা দিয়েছিলেন “ তোমাদের কেউ চাইলে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে যেতে পার। আজ তোমাদেরকে নির্দেশ দেয়ার জন্য কোন রাজা নেই” সাদা কাফন গায়ে জড়িয়ে বলেছিলেন “ যদি আমি শহীদ হয়েযাই তবে এই কাপরই হবে আমার দাফন” । যে সেনাদলের নেতৃত্বদেয় শাহাদাত পিয়াসী সেনাপতি সেই যুদ্ধের পরাজয় লিখা হয় না। বিজয়েই তাঁদের একমাত্র উপহার হয়।

তুর্কিস্তান! বিজয়ের, ন্যায়ের, নেতৃত্বের ভালোবাসার শহর। আবেগের, পরাজয়ের, কান্নার আর হারানোর শহর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী শক্তির কর্নধার ব্রটিশরা যখন বিজয়ের আনন্দে পৃথিবীর মানচিত্র নতুন করে আকছিন তখন অন্যান্য রাষ্ট্রের মত ছিন্নভিন্ন হয়েযায় বৃহৎ উসমানী খেলাফত। জাতিয় গাদ্দার কমিউনিষ্ট কামাল পাশা সেদিন শুধু একটা কাগজে স্বাক্ষর করে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন মুসলমানদের ঐক্যের শেষ ভরসাটুকুকেও। লেখক তুর্কিস্তানের সন্ধানে তুরস্কের পথে পথে হেঁটেছেন আর খুঁজে ফিরেছেন সেই সব নৌবহরকে যারা আরব সাগর থেকে শুরুকরে পৃথিবীর সব বড় বড় সাগরে ঈগলের মতো ঘুরে বেড়িয়েছে । খুঁজে ফিরেছেন বিজ্ঞান চিকিৎসা আর শিক্ষার তুর্কিস্তানকে। মসজিদের নগরী তুর্কিস্তানকে। লেখকের প্রতিটি পদক্ষেপ নিজের শিকড় খুঁজে ফিরেছে তুরস্কের অলিগলিতে। পাঠক কখন নিজের অজান্তে লেখকের সাথে তুরস্কের ধুলায় গড়াগড়ি খেতে শুরুকরে তা নিজেও বুঝতে পায়না।

সফরনামাটি পাঠক মহলে যে বহুল সমাদৃত হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সফরনামাটি সকল পাঠকের ভালো লাগবে সন্দেহ নেই।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে”