বিবেকের জবানবন্দী

লেখক আল্লামা আমীন ছফদর রহ.

অনুবাদক মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার

প্রকাশক কালান্তর প্রকাশনী(সিলেট)

পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৪

মুদ্রিত মুল্য ৳ ৫০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ৩৭.০০(-26% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি অনুবাদ বই

ভুমিকাঃ হানাফি হওয়ার ঐতিহাসিক গল্প।
আহলে হাদিস মতাদর্শী একজন ছাত্র অতঃপর হাদিস বিশ্লেষক এবং পাঠদানকারী একজন শাইখ।
দীক্ষা নিতে গিয়েছিলেন প্রথম জীবনে একজন লা-মাজহাবি শায়খের কাছে। ক্রমেই তিনি একনিষ্ঠ ছাত্র হয়ে গেলেন সে লা-মাজহাবি শাইখের। অতঃপর তিনিও মতাদর্শ গ্রহণ করলেন উস্তাদজির নিকট ঘটেযাওয়া দেওবন্দি বধের দীর্ঘ ফিরিস্তি শুন শুনে।
তাহলে কি সত্যিই তার শায়খ দেওবন্দি উলামায়ে কেরামদের বধ করেছিলেন?
বালক শায়খের সান্নিধ্যে কী কী শিক্ষা নিয়ে বের হওয়ার পর হানাফি হলেন, কেন হলেন এবং কীভাবে হলেন?

পর্যালোচনা ও গল্পসংক্ষেপঃ
বক্ষমান গ্রন্থটি মোট ১৯টি শিরোনাম আর ২৪ পৃষ্ঠা ব্যবহার করেছেন অনুবাদক বইটি অনুবাদ করতে। চমৎকার একটি পরিবেশনা কালান্তর প্রকাশনীর।
যুগের সবচাইতে বেশি ভাইরাল হওয়া ফেতনা, একগুয়ে ফেরকা লা-মাজহাবিদের গোমর ফাঁস করে দেয়া একটি ছোট্ট পুস্তিকা বললে অত্যুক্তি হবে না।
লেখক প্রাথমিক শিক্ষাজীবনে পিতা কর্তৃক যে শিক্ষকের নিকট ভর্তি হয়েছিলেন সে উস্তাদজি ছিলেন আপাদমস্তক একজন আহলে হাদিস মতাদর্শী লা-মাজহাবি ব্যক্তি। লেখক মহোদয় বরাবরই হানাফি (ইমাম আবু হানিফা রাহ.’র অনূসারী) মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিষেদ্গার শুনে আসছিলেন একতরফাভাবেই। বক্ষমান গ্রন্থটিতে মুহাতারাম লেখক ‘ছয় উসুল’ নামে একটি শিরোনাম কায়েম করে তার উস্তাদজির বাতলে দেয়া ছয়টি প্রতারণার ফাঁদ ফাস করে দিয়েছেন। যা সম্পুর্নরূপে একটি কূটচাল ও বিভ্রান্তির দ্বার উম্মোচন করে। কেবল ফিতনা সৃষ্টি করাই যেগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য।
ধীরে ধীরে যখন আরো বেশি মতানৈক্যপুণ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা আসলো তখন উস্তাদজি চমকে দিতে লাগলেন বালক তালাবাকে। ৫০ হাজার টাকার লোভনীয় পুরষ্কারসম্বলিত একটি লিফলেট দিলেন উস্তাদজি ছাত্রের কাছে আর বললেন, আজ বিশ বছর যাবত এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে আসছি দেওবন্দি হানাফিদের উদ্দেশ্যে; কিন্তু কেউই জবাব দিতে সক্ষমতা এজহার করেনি। বালক বললেন, তাহলে আমাকেও এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং লিফলেট দিন যাতে আমিও মুশরিক হানাফিদের নাকানি-চুবানি খাওয়াতে পারি।

যেই কথা সেই কাজ। বালক এরকম একটি লিফলেট নিয়ে গেলেন একজন দেওবন্দি শায়খের কাছে। তিনি অভিযোগসম্বলিত লিফলেটের জওয়াব দেয়ার ব্যাপারে সময়ের স্বল্পতার ওজর দেখিয়ে রেফার্ড করলেন অন্য আরেক দেওবন্দি শায়খের কাছে। বালক সে শায়খের কাছেও গিয়ে হাজির হলেন। পরিণত বয়সের বালক গিয়েই শায়খের কাছে উস্তাদজির লিফলেট ধরিয়ে দিলেন। তারপর সে দেওবন্দি শায়খ বালকের উদ্দেশ্যে বললেন, যদি তুমি সত্য বিষয়টা উদঘাটন এবং অনুসন্ধানের জন্য এসে থাকো তাহলে আমাকে বলো; তবেই আমি তোমাকে সত্যটা বলে দেবো। প্রতিত্তোরে বালক বললেন, জ্বি হ্যাঁ, হযরত অবশ্যই আমি সত্য অনুসন্ধানের জন্য এসেছি, নিছক ঠাট্টা করতে আসিনি। তখন দেওবন্দি শায়খ বললেন, আচ্ছা ধরো আমি দাবি করলাম, তুমি তোমার পিতার বৈধ সন্তান নয়; তাহলে এই দাবির উপর কি তোমাকে বলা হবে যে, তুমি তোমার পিতার বৈধ সন্তান কি-না প্রমাণ করো?
এটাতো বিচার বিভাগের মূলনীতির উল্টো প্রক্রিয়া; বরং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো যিনি দাবি করবেন তিনিই প্রমাণ উপস্থাপন করবেন। বিবাদী তো প্রমাণ উপস্থাপনের প্রশ্নই উঠে না। সুতরাং যারা রফয়ে ঈদাইন এর মাসআলায় অটুট থেকে দাবি করেন যে, রফয়ে ঈদাইন এর বিপক্ষে বা নিষেধের একটি প্রমাণ দেখান, তাহলে তাহলে তাদের এই দাবিটি বিচারিক মুয়ামেলায় কোন দৃষ্টিকোন থেকে দেখা উচিত?
তাছাড়া বালক এই জওয়াবের পাশাপাশি আরো কিছু চমৎকার বিষয় উদঘাটন করেছেন লা-মাজহাবি মতাদর্শী উস্তাদজির। হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের লেখক সবাই কোনো না কোনো মাজহাবের অনূসারী; অথচ লা-মাজহাবিরা মাজহাব না মানার দোহাই দিয়ে থাকে এই হাদিসবেত্তাদের কিতাব থেকেই।
কী অদ্ভুত বিচার আর বিশ্লেষণ!
তবে সত্য স্তিমিত হয়ে যায়নি। সকল প্রতারণার ফাঁদ ভেদ করে বালক হানাফি শায়খদের দূরদর্শী আর সময়োপযুক্ত সব শরয়ি আলোচনার উপর আকৃষ্ট হয়ে বেছে নিলেন সর্বকালের সেরা একজন শরিয়াহ বিশ্লেষক ইমামে আজম আবু হানিফা রাহ.’র মাজহাবকে।
(ইমাম আবু হানিফা রাহ-কে জানতে পড়ুন "হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফা")
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক গন্তব্য পৌছে দিন। আমিন।

উপসংহারঃ
ছোট্ট এ পুস্তিকাটি কলেবর বৃদ্ধিকারী কোনো বিস্তর আলোচনাসমৃদ্ধ গ্রন্থ না হলেও হানাফি মাজহাবকে শক্তিশালী করতে পারে এই বইয়ের প্রত্যেকটি পাঠ।
 

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই