45% ছাড় !

সুখময় জীবনের খোঁজে

৳ 120.00 ৳ 66.00

স্বামীর জন্য উচিত স্ত্রীর জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা
আরবে একটা চমৎকার প্রচলিত নিয়ম যে-
যার আলাদা ঘর আছে, সে শাদী করতে পারবে। যদি পৃথক ঘরের ব্যবস্থা না করতে পারে তো, ঘরের একটা রুম নির্ধারণ করে নেবে। সারা আরবে এই নিয়মটা চলে আসছে। মেয়েরা নিজেদের স্বামীর প্রতি প্রচ- রকমের খুশি থাকে, যখন স্বামী তার জন্য আলাদা একটা ঘর বা ঝুপড়ির ব্যবস্থা করে। আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলির সিস্টেম অনেক সুন্দর। যদি এক সঙ্গে থাকা যায়, তবে স্বামী-স্ত্রীর জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। যাতে এমন না হয় যা আমাদের ঘরে হয়ে থাকে―
তখন শ্বশুড় আশ্চর্য ধরনের আত্মীয় হয়ে যান।
শ্বাশুড়িও আশ্চর্য ধরনের আত্মীয় হয়ে যান।
দেবর-ননদ, চাচা-চাচী এক আশ্চর্য ও ভয়ঙ্কর আত্মীয় হয়ে যান। তাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকাটা ভালো। কিন্তু ইনতেহায়ী বলতে এই সু-সম্পর্কটা যেন সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ না হয়।
আর এমনটা হয় কি কারণে―
আচার-আচরণ না বুঝার কারণে।
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী না বুঝার কারণে।
এ বিষয়টা আরবরা পূর্ণ শরীয়ত অনুযায়ী মেনে থাকে। একজন স্ত্রীর হক― স্বামী তাকে একটা আলাদা ঘরের বন্দোবস্ত করে দেবে। স্ত্রী স্বামীকে বলে কয়ে, রাজি করে তার জন্য একটা আলাদা ঘর চেয়ে নিতে পারবে।
যদি আমাদের তাওফিক হয়, তাহলে স্বামী তার স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করে দেব। মা-বাবা অন্য ঘরে থাকবেন। যদি খিদমতের দরকার পড়ে তো স্বামী নিজে তার বাবা-মার খিদমতের জন্য যাবে। নিজেই বাবা-মার খিদমত করবে সেটা তার স্ত্রীর দায়িত্বে নেই। আর স্ত্রীর বাবা-মার কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়ে, তাহলে স্ত্রী তার মা-বাবার খিদমত করবে, সেটা তার স্বামীর দায়িত্বে নেই।
কিছু লোক এমন আছে যে, আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করতে দেয় না।
শরীয়তের একটা বিধান হল, একটা রুম স্বামী তার স্ত্রীর জন্য বরাদ্দ করে দেবে। এমন একটা রুম, যে রুমের চাবি স্ত্রীর কাছে থাকবে। যাতে কারো কোনো দখল না থাকে। একটা বাথরুম-টয়লেট তাদের দিতে হবে। যে বাথরুম শুধু স্বামী-স্ত্রীই ব্যবহার করবে, অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। একটা কিচেন বা রান্না ঘরের ব্যবস্থা করা, যেখানে অন্য কেউ না আসে। এই তিনটি জিনিস খুবই জরুরি। কেউ যদি আলাদা কিচেনের ব্যবস্থা করতে না পারে, তবে একটা আলাদা চুলার ব্যবস্থা করে দেবে। আর স্ত্রীকে বলবে এটা তোমার জন্য আনা হয়েছে। তবে যদি আনন্দের সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে তো এটা ভালো কথা। পরষ্পরের সম্পর্ক অটুট থাকলে নিজেদের ভালোবাসা-মুহাব্বত তৈরি হয়। কিন্তু এমন না হয় যে, যার কারণে লড়াই শুরু হয়ে যায়। ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক বড় ব্যাপার হয়ে যায়। তো শরীয়ত তাদের বলেছে যে,
রুম আলাদা দাও,
কিচেন আলাদা দাও,
বাথরুম আলাদা দাও।
এতে অনেক ঝগড়া শেষ হয়ে যাবে। এগুলো স্ত্রীর অধিকার। এ সমস্ত বিষয়কে না জায়েয বানানোর কোনো সুযোগ নেই। এটা কোনো ভুল কথা নয়, আমি ঠিক কথাই বলছি। এটা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলব বা আহ্বান। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বলে দেওয়া কথা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে যতোটা সম্ভব বাইরের সম্পর্কের প্রভাব থেকে দূরে রাখা যাবে, এ সম্পর্ক ততোটা মজবুত হবে। তুমি যতোক্ষণ বাইরের কথা শুনবে, ততোক্ষণ তোমাদের সম্পর্কের মাঝে তিক্ততা তৈরি হবে। বাইরে থেকে যতো বেশি আজেবাজে কথা শুনবে, স্বামী-স্ত্রীর মাঝের ভালোবাসাটা ততো বেশি ঘৃণায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে। আমাদের সমাজে এমন কথা হয়েই চলেছে!
আমি স্বামীর প্রতি হাত জোর করে বলছি! যদি স্ত্রীর ব্যাপারে কোনো কিছু শুনে থাক তাহলে আগে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে নাও। আর যদি স্ত্রী স্বামীর ব্যাপারে কোনো কিছু শুনে থাকে, তাহলে স্ত্রীর প্রতি হাতজোড় করে বলছি, স্বামীকে আগে জিজ্ঞেস করে নাও। যা শুনেছো তা ভুল হতে পারে! মিথ্যা বানানো কথা হতে পারে। ভুল বুঝা হতে পারে বা অন্য কারো ব্যাপারের হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এ ব্যাপারে কোনো তাহকীক বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই শোনা কথা বিশ্বাস করে ফেলে। এমন কি নিজের ঘরে আগুন জ্বালাতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। একটা ভুল তথ্যের উপর নিজের স্ত্রীকে বা স্বামীকে যা-তা বলে একটা তিক্ত অবস্থা তৈরি করে ফেলে।

লেখক

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সুখময় জীবনের খোঁজে”