45% ছাড় !

ইয়েমেনে এক শ বিশদিন

৳ 120.00 ৳ 66.00

মরুর দেশে : কারাভাঁর যাত্রা হল শুরু …

রাত্রে আমাদের গন্তব্যের ফায়সালা হবে। এদিকে বিকেলেই সাথী ভাই আব্দুল্লাহ আলি হাসান নাজ্জারী এসে হাজির। আজসহ ছয়বার আসা হল। এরমধ্যে ইজতিমার মাঠেই দুইবার, সেখানেও মেহমানদারীর কমতি নেই। তরমুজ খাইয়েছেন- এক-দুইটা নয় ছয়-সাতটা করে। তাদের ইচ্ছা আমাদের জামাতকে তাদের এলাকায় নিয়ে যাবেনই। শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছা পূর্ণ হল। বিশদিনের জন্য আমাদের প্রথম রোখ (গন্তব্যস্থল) হল মরুময় মরুকন্যা কানাবেজে। সেখানে যেতে কারো কারো মন হয়ত খুঁত খুঁত করতে পারে তাই মাওলানা সুন্দর একটা ফারসী বয়াত শুনিয়ে দিলেন। “পীরে মান খোশাস্ত এহতেমাল বসাস্ত”। সরল অর্থে গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হওয়াই কেন প্রধান সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বুঝালেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, তার বয়াতের অনুবাদ এভাবে করলে কেমন হয় :-
“আমার পীর যাতে খুশি সেটাই চূড়ান্ত
বিকল্প পথ যা কিছু ছিল সবই ভ্রান্ত।”
এরপরে আর কোন বিকল্প চিন্তা কারো মাথায় আসার প্রশ্নই উঠে না। গন্তব্য কানাবেজ, যেতে হবে। এখান থেকে দূরত্ব হুদাইদা বন্দরের পাশ দিয়ে আশি কিলোমিটার। পরেরদিন সকালে নাস্তা শেষে গাড়ির পেছনে মাল-সামানা তুলে আমরা সবাই টয়োটা স্টারলেট ২৪০০ হাফ ট্রাক গাড়িতে বসে পড়লাম। এরকম হাফ ট্রাক এখানের পথে ঘাটে অসংখ্য। সব কাজই হয়। যাত্রীও বহন করা যায়, সাথে মালও। মালিক ও চালক হাসান ভাইয়ের ছোট ভাই। কানাবেজ থেকে পাকা রাস্তা শেষে ধুলি ধুসরিত কাঁচা মেঠো পথে আরো আট-দশ কিলো যেতে হল। তারপর মসজিদ ‘মসজিদে নাজ্জারী’। ছোট-খাট মসজিদ। একশ-একশ পঁচিশজন মানুষ একত্রে নামায পড়তে পারবে। প্রাচীন আমলের এই মসজিদটি পাথরের চতুষ্কোণ টুকরা দিয়ে তৈরি। আলহামদুলিল্লাহ বলে নেমে পড়লাম। সঙ্গে সঙ্গে এলাকার ছোট-বড় ছেলেরা এসে কাইফা হালুকা (কেমন আছেন) বলে হাত মিলাতে লাগল। কেমন যেন ভি-আই-পি, ভি-আই-পি ভাব। সবাই বিশেষ একটু সমীহের চোখে দেখছে। ফিসফিস করে বলছে ‘বাংগালাদেশ, বাংগালাদেশ’। বিদেশে এসে নিজের দেশের কারণে এত ভাললাগা আর এত ভালবাসা পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ধারণা করা যায়নি। এ মসজিদে তিনদিন থাকলাম। প্রত্যেকদিন পাঁচ বেলা হিসেবে জামাই আপ্যায়ন। ফলমুল, ভাত-তরকারি, মাছ-গোশ্ত, রুটি-বিস্কুট, চায়ের যেন বন্যা বয়ে গেল। খেয়ে শেষ করা যায় না। তবু যেন তাদের আপ্যায়ন করে তৃপ্তি হয় না। হায়রে! মেহমানদারিতে এরা কোথায় আর আমরা কোথায়। তবে এখানে মাছির উপদ্রব এত বেশি যে প্রথমদিন সকালে নাস্তা করতে খুবই কষ্ট হয়েছিল। মাছিতে খাবারের প্লেট ঢেকে ফেলে। মাছিদের এখন ব্রিডিং টাইম। এদের দেশে এটা বসন্তকাল। মাছির অত্যাচারে বসে থাকাও মুশকিল। বাধ্য হয়ে দুপুরে মশারি টাঙ্গিয়ে তার নিচে খাওয়া-দাওয়া করতে হল। মশার ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হয়। কিন্তু এখানে মাছির ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হল এজন্য আমরা মশারীর নাম দিলাম মাছিরি।

Category:

লেখক

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ইয়েমেনে এক শ বিশদিন”