45% ছাড় !

একজন নাস্তিক প্রসেফর

৳ 100.00 ৳ 55.00

এক যে ছিলেন প্রফেসর। তিনি ছিলেন খুব জ্ঞানী আর বিচক্ষণ। এ-কারণে মানুষ তাকে খুব সম্মান আর শ্রদ্ধা করত। এ-সংসারে তার এক ছোট ভাই ছাড়া কেউ ছিল না। তিনি ঐ ছোট ভাইকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। এ-ভাবে সুখেই তার জীবন কাটছিল।
মানুষের সব দিন নাকি সমান যায় না। এই প্রফেসর সাহেবের ক্ষেত্রেও তাই ঘটল। হঠাৎ করেই তার ভাইয়ের অসুখ হল। পরীক্ষায় দেখা গেল ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার। সবচেয়ে বড় বড় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হল। পানির মতো টাকা খরচ হল। এমনকি তিনি চার্চে আর গীর্জায়ও নিয়মিত প্রার্থনা করতে লাগলেন। বড় বড় প্রীস্টকে দিয়েও ভাইয়ের রোগমুক্তির জন্য চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। সব প্রীস্টের প্রার্থনা বিফল করে দিয়ে একদিন ভাইটি মারা গেল।
এত বড় আঘাত প্রফেসর সাহেব সহ্য করতে পারলেন না। মৃত্যু যে একটা স্বাভাবিক ঘটনা, যে কোনো মুহূর্তেই যে কোনো মানুষ মারা যেতে পারে এবং মৃত্যুকে জয় করা অসম্ভব, এ-কথাটি তিনি মেনে নিতে পারলেন না। তিনি খুব চার্চভক্ত ছিলেন। এবার তিনি সবকিছুর জন্য চার্চকেই উল্টোভাবে দায়ী করলেন। তার মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় হল যে, চার্চ মিথ্যা শেখায়। সৃষ্টিকর্তা বলে আসলেই কিছু নেই। থাকলে তো তিনি তার ভাইকে রোগমুক্ত করে দিতেন। সুতরাং সৃষ্টিকর্তার এই বিশ্বাস আসলে মিথ্যা।
সুতরাং মানুষকে এই মিথ্যা বিশ্বাস থেকে ফেরানোর জন্য তিনি নিজের সব শক্তি কাজে লাগানোর কথা ভাবলেন।
প্রাচীনকালে আমাদের এই এশিয়া মাইনরে গ্রীস বলে একটি দেশ ছিল। যেখানে একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তার নাম ছিল সক্রেটিস। তিনি মানুষকে কথা-বার্তার মাধ্যমে তার মতবাদ, চিন্তা-ভাবনা বুঝাতেন। এই পদ্ধতিটি প্রফেসরের খুব পছন্দ হল। তিনি তার নাস্তিক মতবাদ প্রচারের জন্য প্রথমে নিজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বেছে নিলেন।
একদিন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে প্রাথমিক আলোচনার পর তিনি ছাত্রদের বললেন,
‘বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম। এবার বিজ্ঞান ‘সৃষ্টিকর্তা’ সম্পর্কে কি বলে সেটা দেখা যাক। ছেলেরা-মেয়েরা তোমরা কি সবাই সৃষ্টিকর্তাকে মান?
ছাত্র-ছাত্রীরা সমস্বরে বলে উঠল-
-জি স্যার, আমরা মানি।
-তাহলে তোমরা সবাই ঈশ্বরবিশ্বাসী তাই তো?
-অবশ্যই স্যার।
-আচ্ছা বল তো, ঈশ্বর কি ভালো?
-অবশ্যই, ঈশ্বর মঙ্গলময়।
-ঈশ্বর কি সর্বশক্তিমান? সব কিছু করতে পারেন?
-জি হ্যাঁ স্যার, পারেন।
-আচ্ছা! একজন মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এখন তোমরা কি তার সেবা করবে?
-হ্যাঁ করব স্যার। ছাত্র-ছাত্রীরা সমস্বরে উত্তর দিল।
-তাহলে তোমরা তো সবাই ভালো। তাই নয় কি?
-সম্ভবত স্যার। অনেকে দো-মনা হয়ে উত্তর দিল।
-অথচ ঈশ্বর নিজে এই লোকটিকে সেবা-শুশ্রুষা করবেন না! করবেন কি?
-না স্যার। ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তর।
স্যার কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে তার মাথা ঝাঁকালেন। তারপর বললেন,
-তাহলে ঈশ্বর তো মন্দ। তাই নয় কি?
ছেলে-মেয়েরা কোনো উত্তর দিল না, নীরব হয়ে রইল।
প্রফেসর এরপর শ্রেণিকক্ষের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত ছুটে গেলেন। তারপর আবার ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন,
-নবীন বন্ধুরা, ঈশ্বর কি ভালো?
-হ্যাঁ, স্যার। ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তর।
-আচ্ছা শয়তান-এভিল কি ভালো?
-অবশ্যই না, স্যার।
-কে শয়তানকে সৃষ্টি করেছে?
-মানে… ঈশ্বর।
-ঠিক আছে। ঈশ্বর শয়তান সৃষ্টি করেছেন। এখন এই… সৃষ্টি করা ভালো না মন্দ?
-মন্দ স্যার!
-আচ্ছা- রোগ, শোক, জ্বর, ক্ষুধা, মৃত্যু এসব ভালো না মন্দ?
-স্যার, এগুলো মন্দ?
-বল তো, এগুলো কে সৃষ্টি করেছেন?
-ছেলে-মেয়েরা আবারও উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে থাকে।
প্রফেসর আরও একবার শ্রেণিকক্ষের এ-মাথা থেকে ও-মাথা ঘুরে এসে আবার প্রশ্ন করেন…
-বল তো, এসব কে সৃষ্টি করেছেন? এবারও কোনো উত্তর দেয় না কেউ। প্রফেসর তখন ছেলে-মেয়েদের মুখোমুখি হয়ে বললেন,
-বিজ্ঞান বলে, পঞ্চইন্দ্রিয়ের স্পর্শ দিয়ে যা দেখা বা অনুভব করা যায় তাই সত্য। তার অস্তিত্ব সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া যায়। অন্যথায় সেটা অবাস্তব ধারণা।
-আচ্ছা, তোমরা কি কেউ কখনও ঈশ্বরকে দেখেছ?
-না স্যার, আমরা কোনোদিন ঈশ্বরকে দেখি নি।
-কোনোদিন কি তোমরা ঈশ্বরকে স্পর্শ করেছ? স্বাদ নিয়েছ? সংবেদন পেয়েছ?
-না স্যার, এগুলোর কোনোটাই আমরা পাই নি।
-তারপরেও তোমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস কর? বিজ্ঞান বলে, যা দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, অনুভব করা যায় না তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এ-ব্যাপারে তোমরা কি বল?
-কিছুই না স্যার। আমরা শুধুই বিশ্বাস করি। যেভাবে সবাই বিশ্বাস করে আসছে সেভাবে।
-এখানেই বিজ্ঞানের সমস্যা। ঈশ্বর সম্বন্ধে কোনোই প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্যতা নেই, শুধুমাত্র বিশ্বাস ছাড়া…!

লেখক

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “একজন নাস্তিক প্রসেফর”