45% ছাড় !

প্রিয়নবীর হাতে গড়া সাহাবায়ে কেরাম রাযি. ১ম পর্ব

৳ 80.00 ৳ 44.00

রাজা ও প্রধানমন্ত্রী
অনেকদিন আগের কথা, এক দেশে ছিল এক রাজা। তিনি ছিলেন যেমন জ্ঞানী তেমনি বুদ্ধিমান। সেই রাজার ছিল বিশাল রাজভা-ার, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। ছিল অনেক সৈন্য-সামন্ত, সেপাই ও লোক-লস্কর। তার যে প্রধানমন্ত্রী, তিনিও ছিলেন খুব জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। যেমন রাজা তেমন প্রধানমন্ত্রী। তার ছিল না শুধু রাজ্য ও রাজভাণ্ডার। প্রধানমন্ত্রীর মনে ছিল একটি গোপন ইচ্ছা। যা তিনি কাউকে বলতে পারতেন না। তার মনের সেই গোপন ইচ্ছাটা হল- তিনি মনে-প্রাণে চাইতেন, মহামান্য রাজার মতো তারও একটি রাজ্য হোক, হোক এক রাজভাণ্ডার। এমন গোপন ইচ্ছার কথা কি কাউকে বলা সম্ভব? যেই শুনবে, রাজাকে দিবে বলে। আর অমনি রাজা তাকে দেবেন শূলে চড়িয়ে।আল্লাহর কি ইচ্ছা! প্রধানমন্ত্রীর এই গোপন বাসনার কথা বুদ্ধিমান রাজার কাছে গোপন রইল না। রাজা ভাবলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত জ্ঞান দেওয়া দরকার। যেই ভাবা সেই কাজ। একদিন তিনি রাজ্যে ঘোষণা করালেন, যে তাকে তিনটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে তাকেই তিনি দান করবেন অর্ধেক রাজত্ব ও রাজকন্যা। ঘোষণা শুনে রাজ্যে হৈ চৈ পড়ে গেল। কার আগে কে হবে সৌভাগ্যবান তা নিয়ে শুরু হল হুড়োহুড়ি। প্রশ্নের উত্তর সবাই দিতে চায়। সকলেই হতে চায় রাজত্বসহ রাজকন্যার মালিক। রাজ দরবার, ময়দান, আশপাশ লোকে লোকারণ্য।

বাছাই পর্ব
প্রজাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং প্রতিযোগীদের আধিক্যের কারণে রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন, প্রতিদিন যতদূর সম্ভব যোগ্য লোক বাছাই করবেন। শুরু হল প্রাথমিক বাছাই পর্ব। এ পর্বে যারা জ্ঞানে-বিদ্যায় রাজার পছন্দ ও যোগ্য বিবেচিত হবে তারাই শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।প্রতিদিন যেমন অসংখ্য লোক রাজদরবারে আসতে শুরু করল, তেমনি বুদ্ধিমান রাজার কাছে বুদ্ধি আর জ্ঞানের পরীক্ষায় বিফল ও নিরাশ হয়ে বহু মানুষ ফিরেও যেতে লাগল। অবশেষে অনেক যাচাই-বাছাই শেষে চারজনকে তিনি প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করলেন। প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবার জন্য সময় দিলেন মাত্র দুইমাস। সাথে শর্ত জুড়ে দিলেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে প্রতিযোগীদের প্রত্যেককে রাজার কাছে নাম ও ঠিকানা লিখে দিতে হবে। কেননা যে ব্যর্থ হবে তাকে দেওয়া হবে প্রাণদণ্ড। কঠিন শর্ত। পুরস্কার যেমন অনেক বড় শাস্তিও তেমন অনেক ভয়ানক। যেদিন থেকে দুই মাস গণনা শুরু হবে সেদিনের সকাল। রাজা প্রতিযোগীদের ডেকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তারা প্রত্যেকে এই প্রতিযোগিতার শর্তে রাজি আছে কিনা? বিফলে যে প্রাণ দিতে হবে তাতে সম্মত কিনা? চারজন প্রতিযোগীই সম্মতি জানাল। শুরু হল প্রতিযোগিতা মহামান্য রাজার নির্দেশে একটা ঘণ্টা বাজিয়ে এই আশ্চর্যজনক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হল। রাজার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্রতিযোগীরা প্রত্যেকে শুরু করল তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজতে। হাজার হাজার প্রজা দেখতে লাগল এই আশ্চর্য দৃশ্য। তারা অবাক হয়ে দেখল, এই চারজন প্রতিযোগীর মধ্যে তাদের রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও আছেন। জ্ঞানী ও বিদ্যান হিসাবে সবাই তাকে চিনত। সবাই তাকে খুব ভালোও বাসত। ফলে তিনি যেন সফল হতে পারেন এজন্য মনে মনে অনেকে দুআও করতে লাগল। এরপর দিন পেরিয়ে সপ্তাহ আর সপ্তাহ পেরিয়ে মাস। অথচ রাজার তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রধানমন্ত্রীর ঠিক মনপুত হচ্ছে না। তিনি রাজ্যজুড়ে অনেক জ্ঞানী-গুণী, বিদ্যান ও মনীষীর সঙ্গে দেখা করলেন। প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনাও করলেন। কিন্তু কারও উত্তর তার কাছে সন্তোষজনক মনে হল না। এদিকে সময়ও ফুরিয়ে যেতে লাগল। দুশ্চিন্তা আর দুর্ভাবনায় মন্ত্রীর চোখের নিচে কালি পড়ে গেল। কাপড়, জুতা ছিঁড়ে গেল। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শরীর হয়ে পড়ল অবসন্ন। সময় হাতে আছে মাত্র দুই দিন। রাত পোহালেই রাজার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ফলাফল হয় রাজত্ব নয় মৃত্যু।

লেখক

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “প্রিয়নবীর হাতে গড়া সাহাবায়ে কেরাম রাযি. ১ম পর্ব”