হুজুর হয়ে হাসো কেন?

লেখক হুজুর হয়ে টিম

প্রকাশক সমর্পণ প্রকাশন

পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২০

মুদ্রিত মুল্য ৳ ১৭৫.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ১৪০.০০(-20% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি ইসলামি গল্প

'হুজুর' শব্দটি কুরআন-হাদীসে আমরা কোথাও পাই না। বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থে এই শব্দটি দিয়ে এক সময় শুধু মাদ্রাসার আলিম ও তালিবুল ইলম শ্রেণির মানুষদের বোঝানো হতো। তবে পরবর্তীকালে কিছু নির্দিষ্ট ইসলামী চিহ্নধারী সকল মানুষকেই 'হুজুর' বলে ডাকা প্রচলিত হয়ে যায়। সেসব ইসলামী চিহ্ন পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি-টুপি, পায়জামা-পাঞ্জাবি, জুব্বা ইত্যাদি। নারীদের ক্ষেত্রে বোরকা, আবায়া, হিজাব, নিকাব ইত্যাদি। তার মানে মাদ্রাসা বা জেনারেল শিক্ষিত-যে কেউই এখন 'হুজুর' বলে সমাজে পরিচিত হতে পারে।
তো বাহ্যিক এই চিহ্নগুলো ধারণ করা মানুষের কাছ থেকে স্বভাবতই প্রত্যাশা থাকে যে তারা ইসলামী নিয়ম- কানুন মেনে চলবে, অন্ততত অন্য আর দশজনের চেয়ে বেশি। কিন্তু সেই মেনে চলার সীমানাটা কতটুকু, তা নিয়ে আমাদের সমাজ কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। তাই এই হুজুরদের কোন জায়িয বা মুবাহ কাজ করতে দেখলেও অন্যেরা প্রশ্ন করে বসে, "হুজুর হয়ে এই কাজ করেছেন কেন?", "হুজুর হয়ে ওটা করছ কেন?" ইত্যাদি। এ ধরনের প্রশ্নের আরেকটি সমস্যা হলো, মানুষ ধরে নিচ্ছে হুজুরদের জন্য এক রকম শরিয়ত, অ-হুজুরদের জন্য আরেক রকম শারিয়ত।অথচ "হুজুর হয়ে" যেটা করা হারাম "মুসলিম হয়ে"ই সেটা করা হারাম। "হুজুর হয়ে" যেটা করা অশোভনীয়, মুসলিম হয়ে সেটা করা অশোভনীয়। অনলাইনে, ইন্টারনেটে, ফেসবুকে হুজুরশ্রেণির মাঝে তাই "হুজুর হয়ে" কথাটা একটা খুনসুটির বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে "হুজুর হয়ে হাসো কেন?" বইটি লিখা।
বইসাজ্জাঃ
বইটি কয়েকটি ধাপে সাজানো হয়েছে।
প্রথম, যেভাবে শুরু।
দ্বিতীয়, বিটিভি সমগ্র।
তৃতীয়, নাটিকা।
চতুর্থ, ফুলান সিরিজ।
পঞ্চম, যাবার আগে।
প্রত্যেকটি ধাপে হাসি ঠাট্টার মাধ্যমে সেক্যুলারদের উত্থাপীত বিষয়গুলোর সময়োপযোগী উত্তর প্রদান করা হয়েছে। এই হাসিঠাট্টার ছলে অভিনব প্রথম বই " হুজুর হয়ে হাসো কেন? "
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
যখন ঈদুল আযহা অতি সন্নিকটে হয়, তখন দেশের আপামর সেক্যুলার প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা অসাম্প্রদায়িক উদারপন্থী সুশীল বুদ্ধিজীবী সমাজের ফেসবুকের ওয়ালে শোভাপায় "বনের পশু নয় মনের পশু কুরবানী করুন"। তো এক প্রগতিশীলকে ইদের দিন বলা হলো," নে বন্ধু। তোর জন্য মনের পশু কুরবানি করা থেকে কয়েক টুকরো মাংস দিলাম। খেয়ে জানাস কেমন লাগে।" তো, প্রগতিশীল মহাশয় খুব ক্ষ্যাপা, "বলেন ঈদের দিন এই ব্যাথা সহ্য হয় সকাল থেকে না খেয়ে আছি। কখন কারো বাসায় একটু দাওয়াত পাবো। আর তুই কিনা আমার সাথে---ইসলাম এইসব হাসি তামাসা পছন্দ করে!" অথচ ওনারাই জিকির তুলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক হুজুর তার ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস শেয়ার করলো, "মনের ইলিশ কর ভাঁজা, বাঁচবে ইলিশ থাকবে তাজা।" এই স্ট্যাটাস ষাঁড় মহাশয়ের দৃষ্টিগোচর হল, তিনি তরুণ সমাজকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। তিনিতো রেগে-মেগে আগুন।
এসমস্ত হুজুররাই দেশটাকে চোদ্দোশো বছর পিছিয়ে দিচ্ছে। এই সমস্ত গন্ডমুর্খদের যন্ত্রণায় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ পালন করা রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
কিছুদিন পূর্বে, কোনো একটা বিশেষ কারণে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। সাথে ক্লাসের সি আর। সি আর স্কুল-কলেজে ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচিত। তো, তার থেকে আমি এক কদম আগে আগে হাঁটছি আর ও পিছনে পিছনে হাটছে। রাস্তা দিয়ে মাহিন্দ্রা করে কিছু ছেলে-মেয়ে যাচ্ছে। তাঁরা এমনভাবে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে যেন আমরা বিশেষ কিছু অন্যায় করে ফেলেছি। অথচ যে ছেলেটা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে ও দুটো মেয়ের মাঝখানে বসা। ওই যে, আমাদের সমাজে কিছু প্রচলিত চিহ্ন হয়ে গেছে যেগুলো কারো মাঝে বিদ্যমান থাকলে তাকে "হুজুর" হিসেবে চিহ্নিত করা হয় দাড়ি-টুপী পাঞ্জাবি। আমি হেঁটে যাচ্ছি তা তার কাছে বেমানান ঠেকছে অথচ সে দুটো মেয়ের মাঝখানে বসে আছে তা বেমানান ঠেকেনি। যার অর্থ হচ্ছে হুজুর দের জন্য এক শরীয়ত ও হুজুরদের জন্য এক শরীয়ত। হাউ
ফানি দ্যায়ার থিংকিং!
ভন্ড পীরদের যন্ত্রণায় প্রকৃত ইসলাম আজ ভূলুণ্ঠিত। যত্রতত্র গজিয়ে উঠছে এ সমস্ত পীরদের আস্তানা। সরল মনা, ধর্মভীরু, অনেক মুসলমান জড়িয়ে যাচ্ছে তাদের এসমস্ত অপকর্মের ফাঁদে। কখনও কখনও তাদের কাজকর্ম শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ছোটবেলায় বিটিভিতে মিনা-রাজু কার্টুন ছিল খুবই জনপ্রিয়। তারা অশিক্ষা, যৌতুকপ্রথা, ইভটিজিং এবং মেয়ে শিক্ষার পক্ষে কথা বলে। এখানেও মিনা-রাজু আছে তবে তারা পরিপূর্ণ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত। মিনা শরয়ী হিজাব করে। রাজু হুজুর ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মসজিদে ইমামতি করে এবং মাদ্রাসায় পড়ায়। এমন অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক পাঠে সাজানো হয়েছে বইটি। যা পাঠে প্রত্যেক ব্যাক্তি হাসি আনন্দের মাঝ দিয়ে নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী, সেক্যুলার, মুক্তমনাদের উত্থাপিত অসাড় কতাবার্তার সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে তাদের স্টাইলে।
সমালোচানা করার মতো কোনো বিষয় পাইনও। লিখাগুলো ঝকঝকা তকতকা। পেজের কোয়ালিটিও মাশাআল্লাহ। প্রত্যেকটি লিখাই ফলপ্রসু। ফ্ল্যাপিং টা আরো উন্নতমানের হতে পারতো। ডিজাইনটা বইয়ের সাথে সুন্দর মানিয়েছে।
উপসংহার। আল্লাহ তাআলা লেখকদের দ্বীনের জন্য কবুল করুন। তাদের খালেস নিয়ত কে কল করুন। রিয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাদের নাম উল্লেখও করেননি। শারি'ঈ সম্পাদক-প্রকাশক কে আল্লাহ তাআলা উত্তম জাযা এবং হায়াত দান করুক। এমন একটি বই ইসলামী জগতে খুবই প্রয়োজন ছিল। আল্লাহ তাআলা পাঠককে বই থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের তোফিক দান করুক, আমিন।
 

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন

এই বিষয়ে অন্যান্য বই