রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাহ নিয়ে যেসব বই পড়েছি, তারমধ্যে রেইনড্রপস এর সীরাহ বইটিকে শীর্ষে রাখবো। এই বইটি পড়ার পর সীরাত ইবন হিশাম শুরু করলাম, সীরাত বিষয়ক রেফারেন্স বুক। মনে হচ্ছে সীরাত ইবন হিশাম যেভাবে অনুবাদ করা হয়েছে, একই কথা আরো সুন্দর করে রেইনড্রপস এর সীরাহ বইটিতেও উদ্ধৃত হয়েছে।
তার সাথে অতিরিক্ত যে দিকটা বইটাকে অনন্য করেছে সেটা হলো প্রত্যেকটা ঘটনা থেকে ‘শিক্ষা’ কী আছে সেটা। আগে সীরাহ পড়তে গিয়ে অনেকটা গল্পের ঢঙ এ পড়তাম। গল্প-উপন্যাসের মতো কোনো কোনো জায়গায় টানটান উত্তেজনার থ্রিলার, কোনো কোনো জায়গায় কষ্টকর অবস্থার বিবরণ আবার কোনো কোনো জায়গায় বীরের বেশে গল্পের নায়কের মতো প্রত্যাবর্তন – সীরাহ পড়তে গিয়ে আর দশটা গল্প উপন্যাস থেকে সীরাহ’তে শিক্ষার বিষয়টা অনুধাবন করা মোটামুটি কষ্টসাধ্য ছিলো।
তার উপর আমাদের দেশে সীরাহ নিয়ে যেসব বই পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই অনুবাদ করা বই। যেমন: সীরাত ইবন হিশাম, আর রাহীকূল মাখতুম, নবীয়ে রহমত ইত্যাদি। মূল বই আর অনুবাদ বইয়ের ভাষাগত ব্যবধান তৈরি হবার দরুন সীরাহ পড়ে যেরকম উপকৃত হবার কথা সেরকমটা হচ্ছেনা।
সীরাহ পড়তে গেলে অনেকসময় মনে হতে পারে, ১৪০০ বছর আগের কোনো কাহিনী পড়ছি, এসব ঘটনা তো ১৪০০ বছর আগের কোনো মরু প্রান্তরের।
সীরাহ এবং বর্তমান সময়ের সংযোগ, এই দুটো বিষয় সীরাহ অধ্যয়নের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ১৪০০ বছর আগের ঘটনাগুলোও যে ঘুরেফিরে আমাদের চারপাশে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, আমাদের সমাজেও যে আবু জাহেল, আব্দুল্লাহ ইবন উবাই বাস করছে তাদেরকে কিভাবে চিনবো, তাদেরকে চেনার সেই লক্ষণগুলো বইতে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বইটি এ দুটো অভাব অনেকটা দূর করেছে।