22% ছাড় !

অন্দরমহল

৳ 650.00 ৳ 510.00

Description

হরিহরণ দীর্ঘ সময় চুপ করে বসে রইল। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল, ও ছেলে তোর, তা বিষ্ণুপুরের কি কেউ জানে? হেমাঙ্গিনী দেবী সাথে সাথেই জবাব দিল না। চুপ করে রইল। তারপর বলল, জানে। হরিহরণ বলল, কে জানে? হেমাঙ্গিনী দেবী বলল, বড়বাবুর স্ত্রী। হরিহরণ এবার সত্যি সত্যি অবাক হল, বড় বাবুর স্ত্রী মানে? অবনীন্দ্রনারায়ণের স্ত্রী? বীণাবালা? হেমাঙ্গিনী অন্ধকারেই হ্যা সূচক মাথা নাড়াল। তারপর স্মিত কন্ঠে বলল, হ্যা। হরিহরণ বলল, তোর কি হয়েছে হেমাঙ্গিনী? আমায় খুলে বল। স্পষ্ট করে বল। হেমাঙ্গিনী আবারও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর সেও ঠান্ডা গলায় বলল, এই জমিদার বাড়ির সাথে আমার কিছু হিসেব আছে হরি কাকা। তোমারও ছিল। কিন্তু তুমি পালানো মানুষ। পালানো মানুষ হিসেব ভয় পায়। তারা হিসেব ছেড়ে পালায়। তুমিও পালাচ্ছ। হরিহরণ বলল, তত্ত্ব কথা ছাড় হেমাঙ্গিনী। এখন তত্ত্বকথার সময় নয়। আসল কথা বল। তুই কি খেলা শুরু করেছিস? আমায় বল। হেমাঙ্গিনী দেবী বলল, সব বলব হরি কাকা। সব বলব। তার আগে আমার ছেলেকে বাঁচাও হরি কাকা। আমায় জঙ্গলের ভেতর ওই বাড়িতে নিয়ে চল। হরিহরণের হঠাৎ মনে হল, আসলেইতো, আগে ছেলেটার কি হাল সেটি দেখা জরুরী। আর এখন এই শেষ রাতে ওখানে আর কারো থাকার কথাও না। হরিহরণ আর কথা বাড়াল না। সে হেমাঙ্গিনী দেবীর হাত ধরে টেনে নাও থেকে নামল। তারপর আবার ঢুকল বারোহাটির জঙ্গলে। হরিহরণ এবার আরো সংক্ষিপ্ত পথ ধরল। কিন্তু গভীর জঙ্গলে সেই ভাঙা বাড়ির সামনে এসে হেমাঙ্গিনী দেবী আর হরিহরণ থমকে গেল। বাড়ির সামনে দেবেন্দ্রনারায়ণ সম্পূর্ণ একা দাঁড়িয়ে আছেন। হরিহরণ আর হেমাঙ্গিনী দেবী নিশ্চুপ, নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইল আড়ালে। দেবেন্দ্রনারায়ণ বাড়ির ভেতর ঢুকলেন। তারপর দীর্ঘসময় পর বাড়ির ভেতর থেকে বের হলেন। হরিহরণ আর হেমাঙ্গিনী দেবী দেখল দেবেন্দ্রনারায়ণের কাঁধে কাপড়ে মোড়ানো ছেলেটি। মশালের আলোয় তার পা দুখানা দুলছে। হরিহরণ আর হেমাঙ্গিনী দেবী বিষ্ফোরিত চোখে দেখল, দেবেন্দ্রনারায়ণ ছেলেটিকে একটি বৃক্ষের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে রাখলেন। তারপর আবার ঢুকে গেলেন বাড়িটিতে। তার কিছুক্ষণ বাদে দেবেন্দ্রনারায়ণ আবার বাড়ি থেকে বের হয়ে এলেন। ততক্ষণে দাউদাউ আগুনে জ্বলতে শুরু করেছে বাড়িটি। দেবেন্দ্রনারায়ণ একবারের জন্যও পিছু ফিরে তাকালেন না। তিনি ছেলেটিকে ফের কাঁধে তুলে নিলেন। তারপর ঢুকে গেলেন জঙ্গলে। – অন্দরমহল

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “অন্দরমহল”