ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান

লেখক ইভন রিডলি

প্রকাশক নবপ্রকাশ

আইএসবিএন 9789849265566

পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৫৩

মুদ্রিত মুল্য ৳ ৪০০.০০

ছাড়ে মুল্য ৳ ২৪০.০০(-40% Off)

রেটিং

ক্যাটাগরি আত্নজীবনী , জীবনী, স্মৃতিচারণ ও সাক্ষাৎকার , জীবনী ও স্মৃতিচারণ: বিবিধ , মহীয়সী নারী জীবনী , মুসলিম ব্যক্তিত্ব

"বইটি এক অর্থে লেখিকা ইভন রিডলির আত্মজীবনী নয়। আবার অন্য অর্থে এটা তার আত্নজৈবনিক এক অসামান্য দলিল। স্বভাবতই এ কথার মধ্যে একটা মতদ্বৈততা খুঁজে পাবেন। এখানে মতদ্বৈততার তৈরী হয়েছে মূলত বন্দিবস্থায় তার স্থিতি এবং মুক্ত হয়ে তাঁর ইসলাম গ্রহণের পটভূমির কারণে।"

কাহিনী যেভাবে শুরু। বুধবার। ১১সেপ্টেম্বর ২০০১। আমেরিকার বিশ্ব বাণিজ্যিকেন্দ্র (টুইন টাওয়ার) এর হামলা হওয়ার পর সন্দেহের তীর যখন ছুটেছে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের দিকে তখন হামলা পরবর্তী তরতাজা আর গরম সংবাদ সংগ্রহের জন্য লন্ডনের 'ডেইলি এক্সপ্রেস' এর সাংবাদিক হয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আসেন ইভন রিডলি। তিনি ছিলেন সে সময়ের প্রবল সংগ্রামী নারীবাদী হওয়ায় আফগানিস্তানের নারীদের সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন তৈরীর করার মানসে জালাবাদ যান। ফিরে আসার পথে সীমান্ত থেকে দশমিনিট রাস্তার আগ মুহূর্তে তালেবানদের হাতে বন্দী হোন। তার দশদিনের বন্দিজীবন পুরো বিশ্ব মিডিয়ায় যতোটা না তোলপাড় করেছে তারচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন মুক্তির পর ২০০৩ সালে আকস্মিক ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে। বিপ্লবী রিডলির ইসলাম গ্রহণে বিশ্ব মিডিয়ায় হইচই হওয়ার পর "স্টকহোম সিনড্রোমে" আক্রান্ত বলে অনেকেই সুর তুলেছেন। কিন্তু ইভন তাকে নিয়ে এমন অসত্য অভিযোগ নাকোচ করে দেন।

রিডলি একজন ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় তার বেড়ে উঠা ছিলো ইউরিপিয়ান ধাঁচে। দিনে কাজে ব্যস্ত থাকতেন রাতটা বন্ধুদের সাথে মদ খেয়ে পার করতেন। একজন তুখোড় মদ্যপায়ী ছিলেন। ব্যক্তিজীবন খুবই চঞ্চল ও আড্ডাপ্রিয় ছিলেন। সিগারেট সে ত তার অবসরতার সঙ্গী। দূর থেকে আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশ ও পশ্চিমা হলুদ মিডিয়া আফগানিশ্তানের তালেবানদের নিয়ে তার যে বিরূপ ধারণা ছিলো দশদিন তালেবানদের কারাগারে বন্দী থেকে সম্পূর্ণ জানাশোনা উল্টো প্রমাণিত হয়েছে। রিডলির ভাষায় "আমার মুক্তির পর সবাই যে বিষয়টা বেশী জানতে চেয়েছে, সেটা হলো তালেবানরা কি কি শাস্তি দিয়েছে? শারীরিক নির্যাতন কি কি হয়েছে? ধর্ষণ হয়েছে কি? এসব প্রশ্ন একজন সাংবাদিক থেকে শুরু করে সামান্য একজন চালক পর্যন্ত আমাকে করেছে।" এসব উত্তরে তার মুখে "নির্যাতন ত নয় বরং তারা আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছে। এমনকি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা আমার দিকে তাকাতো না পর্যন্ত।" তিনি তার দেখা দশদিনের তালেবানদের জীবনযাপনের কথা ও উল্লেখ করেন।

বলতে দ্বিধা নেই। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় পাঠকমনে উত্তেজনা তৈরী করবে। ইভন রিডলির প্রাথমিক জীবন। দাম্পত্যজীবনের সুখ, দুঃখ, কলহ বিবেদ ও বিচ্ছেদ। মা, বাবা, ভাই, বোন বন্ধুসহ একমাত্র মেয়ে ডেইজি কে রেখে অনিশ্চিত এক জীবনের মুখোমুখি। বন্দিজীবন ও তার পরবর্তী সময়। সবশেষে তিনি এ-ও জানিয়ে দেন, তালেবানদের মহানুভবতা নয়, ইসলামের বক্তব্য, শান্তির বাণী আর ইসলামে নারীদের প্রদত্ত সুমহান মর্যাদাই তাঁকে টেনে এনেছে আলোর পথে ...

বইয়ের নাম দেখে পাঠকমনে তৈরী হতে পারে পুরো বইজুড়ে তালেবান আর রিডলি-র ইসলাম গ্রহণের বিস্তর আলোচনা থাকবে। বাস্তব চিত্র পুরো ভিন্ন। নাম দেখে যেই প্রত্যাশা সে হিসেবে হতাশা বেশী। ইসলাম গ্রহণের পটভূমি নিয়ে আলোচনা নেই বললেই চলে। সেই সাথে তালেবানদের নিয়েও তেমন উচ্ছ্বাসিত লেখা নেই। তবে কথা দিচ্ছি বইটা পড়ে নিশ্চয় আপনার ভালো লাগবে। অনেক অজানা খোরাক পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। বইটা আপনার পাঠোত্তেজনার পারদ নিমিষেই দিগুণ বাড়িয়ে দেয়ার মতো সামর্থ্য রাখবে ইনশাআল্লাহ ...

আপনি লগড ইন নাই, দয়া করে লগ ইন করুন