Uncategorized

বদনজর থেকে কিভাবে বাঁচবেন ?

এইযে মেয়েটা একসময় অনিন্দ্য সুন্দরী ছিলো ৷ তার বান্ধবীর বদনযরে আজ সে তার সৌন্দর্য হারিয়েছে ৷ চেহারায় গুটিগুটি কী যেনো এসব উপচে উঠছে ৷

একসময় যে ছেলেটা জ্ঞানে— গুণে পটু ছিলো ৷ আজ সে কারো বদনজরে মানসিক বিকারগ্রস্ত ৷

ফুটফুটে শিশুটা প্রায়সময় তার নিজ মায়ের নযরে পড়ে জ্বরে আক্রান্ত হয় ৷ কিন্তু মা কিছুতেই বুঝতে পারেনা , তার সন্তানের সৌন্দর্যে তিনি অতি বিমোহিত ৷

প্রচুর ফল দেয়া গাছটি হঠাৎই কেনো শুকিয়ে যাচ্ছে ৷ হারিয়ে ফেলছে তার যৌবন ৷ যদি বাহ্যিক কোনো কারণ দেখা না যায় ৷ তবে কারো বদনজরই পড়েছে তাতে ৷

এমনকি বদনযরে মানুষ হার্ট এ্যাটাক, হাঁপানী ও বন্ধ্যাত্বের মতো বড় বড় রোগেও আক্রান্ত হতে পারে ৷ জমির ফসল ধ্বংস হতে পারে ৷ বাড়ি ধ্বসে পড়তে পারে ৷ আরো অনেক ধরণের ক্ষতি হতে পারে ৷

.

★ রাসূল ( صلي الله عليه و سلم) বলেন,

أكثر من يموت من أمتي بعد قضاء الله تعالي و قدره بالانفس يعني بالعين.

“আল্লাহর ফয়সালা ও ভাগ্যের পর
আমার উম্মতের সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় নজরলেগে ৷

( দেখুন, সহীহুল জামে, হাদিস নং 1206 )

চিন্তা করুন ৷
.

করণীয় কী ?
————————

* বদনযরের পূর্বে ৷

প্রতিদিনকার কিছু কমন আমল করবেন ৷

১, প্রতিদিন আয়াতুল কুরসী, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বেন ৷

২, এই দোয়াটিও সকাল সন্ধ্যায় পড়বেন ৷

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

( আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং, ৫০৮৮, সুনানে তিরমিযী , ৩৩৮৮)

.
এসব আমলে কোনো টাকা ব্যয় হয়না ৷ অনেক সময় চলে যায় এমনও নয় ৷ তবে এর গুরুত্ব তখনি বুঝে আসবে ৷ যখন আপনি ক্ষতির শিকার হয়ে প্রচুর অর্থ ঢালবেন ৷ অস্বস্তি চলে আসবে আপনার জীবনে ৷
.

কিছু মানুষের বদনযর সবার কাছেই প্রসিদ্ধ হয় ৷ এমনকি আমাদের গ্রামেও পরিচিত এমন ব্যক্তি রয়েছেন ৷ কিছু মানুষের বদনযর সমসময় লাগেনা ৷ হঠাৎ কখনো লেগে যায় ৷ কিছু মানুষের বদনযর একদম লাগেনা ৷

যাদের ব্যাপারে জানেন তাদের সামনে নিজ সৌন্দর্য বা নিজের ভালোকিছুকে অবশ্যই লুকানোর চেষ্টা করবেন ৷ অতি বেশি প্রকাশ করবেননা ৷

আর যদি ওদের দৃষ্টিতে পড়েই যান ৷ তাহলে তাকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে নিষেধ করবেন ৷

আর যদি মন্তব্য করে তাহলে কিভাবে করবে ?

.
প্রথমে বরকতের দোয়া ( বিশেষ করে আল্লাহর নামটা নিয়ে ) মন্তব্য করবে ৷ রাসূল সা.সবাইকে বলে দিচ্ছেন ৷

– إذا رأى أحدُكم من أخيه و من نفسه و من مالِه ما يُعجِبُه فلْيُبَرِّكْه ، فإنَّ العَينَ حَقٌّ

” তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার ভাইয়ের কোনো সৌন্দর্য ; দেহের বা সম্পদের কোনো বিষয় তাকে অবাক করে দেয় ৷ তাহলে সে যেনো ওই ব্যাপারে বরকতের দোয়া করে ৷ কেননা , বদনযরের ক্ষতি একটি বাস্তব বিষয় ৷

( ” দেখুন, আসসিলসিলাতুস সহীহা, 2575, আলকালিমুত তায়্যিব, 244، সহীহুল জামে,, 4020, 556, সহীহ ইবনে মাজাহ, 2844 )

তাই মন্তব্য করতে উদ্ধত হলেই তাকে বলে দিবেন,

” শুরুতে আল্লাহর নাম নিন ৷ বরকতের দোয়া করুন ৷

* বদনযরে পড়ার ভয় হলে রাসূল ( صلي الله عليه و سلم) যে দোয়াটি শিখিয়েছেন তা মনেযোগ সহকারে পড়া ৷

আরবিতে পড়বেন

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ ‏”‏‏.‏

” আমি আল্লাহ তায়ালার পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ঠ হতে পানাহ চাচ্ছি।

( ” দেখুন , বুখারি শরীফ , 3371,, সহীহ মুসলিম,, 2545, আবু দাউদ, 4737, সহীহ ইবনে হিব্বান, 1012, 1013,, সহীহুত তিরমিযী, 2060,, সহীহ ইবনে মাজাহ , 2857 )

* বদনযরের পর কী করণীয় ?

১ .
কারো বদনযর লেগে গেলে তার ওযু বা গোসলের পানি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ঢেলে দেয়া ৷

এভাবে রাসূল صلي الله عليه و سلم এক সাহাবীর চিকিৎসা করেছেন ৷

( ঘটনাটি দেখুন, : আসসিলসিলাতুস সহীহা, 6/149,,, সহীহ ইবনে হিব্বান 6105 মাজমাউয যাওয়ায়েদ , 5/110 )

২ .

নিচের দোয়াটি পড়ে রোগীর শরীরে দম করবেন (মানে ফুঁ দিবেন) ৷ আরবিতে পড়বেন

: ” باسمِ اللهِ أرقيكَ . من كلِّ شيٍء يُؤذيكَ . من شرِّ كل نفسٍ أو عينِ حاسدٍ اللهُ يشفيكَ . باسمِ اللهِ أَرْقِيكَ .

” হযরত জীবরীল আ.রাসূল সা.এর কাছে এসে বললেন, “হে মুহাম্মাদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ ৷ তখন জীবরীল আ.দোয়াটি পড়লেন ৷……(দোয়া )

( দেখুন, সহীহ মুসলিম,2186 সহীহ ইবনে হিব্বান, 2968 , 6095 সহীহ্ ইবনে মাজাহ,2858, 1270 আলইলালুল কাবীর,141 মিসবীহুয যুজাজাহ, 4/75, শরহুস সুন্নাহ, 3/181,সহীহুল জামে 70, সহীহুত তিরমিযী , 972 )

৩.

বুখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফসহ অনেক কিতাবের হাদিসে বদনযরে ঝাড়ফুঁক করার কথা রাসূল সা. অনুমতি দিয়েছেন ৷ রাসূল (صلي الله علبه و سلم ) বলেন,

– لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ

বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক নেই। ”

( দেখুন, বুখারী শরীফ , 5705 মুসলিম,শরীফ ,220 আবু দাউদ শরীফ , 3889, সহীহুল জামে, 7496, সহীহ্ ইবনে হিব্বান 6430, আলমাজমু, 9/65 )

.

কখনো যদি আপনার নযর কারো ওপর লেগে যায় ৷ তখন যদি আপনার শরীর— ধৌত পানি চাওয়া হয় ৷ তখন অবশ্যই পানি দিবেন ৷ লজ্জা দেখাতে গিয়ে তা থেকে বিরত থাকবেননা ৷

কারণ, রাসূল সা. এমতাবস্থায় পানি দেয়ার আদেশ করেছেন ৷ তিনি বলেন ,

العينُ حقٌّ . ولو كان شيٌء سابقُ القدرِ سبقتْهُ العينُ وإذا استغسلتم فاغسلوا

বদনযরের প্রভাব সত্য ৷ যদি কোনোকিছু ভাগ্যকে ডিঙিয়ে যেতে পারতো তাহলে তা হতো বদনযর ৷ যখন তোমাদের কাছে শরীর—ধৌত পানি চাওয়া হয় তখন গোসল করো (আর পানি দিয়ে দাও) ৷

( দেখুন, সহীহ মুসলিম, 2188 সহীহ ইবনে হিব্বান, 6107,, হিলইয়াতুল আউলিয়া 4/19, শরহুস সুন্নাহ ,6/263 যাদুল মাআদ 4/150 সহীহুল জামে, 4147 )

.

কোনো দোষ ছাড়াই— কোনো কারণ ছাড়াই এমন ধ্বংসের সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচুন ৷ খেয়াল রাখুন, কোন্ বন্ধু /বান্ধবীর নযর লেগে যায় ৷ তাদের থেকে নাহয় একটু সতর্ক থাকলেন ৷ নয়তো একবার হারালে আফসোসের সীমা থাকবেনা

Related posts

Leave a Comment

%d bloggers like this: