Uncategorized

প্রবাসীদের আয়ের উপর ভ্যাট ট্যাক্স বসালে সবচেয়ে বেশী লাভ প্রবাসীদেরই!

প্রবাসীদের আয়ের উপর #ভ্যাট_ট্যাক্সে যখন চতুর্মূখী লাভ তখন এত শঙ্কা কিসের?

প্রবাসীদের আয়ের উপর ভ্যাট ট্যাক্স বসালে সবচেয়ে বেশী লাভ প্রবাসীদেরই!

আমার মত বোকা সোকা হাবাগুবা দেশ প্রেমিক প্রবাসী যারা তাদের অনেকেই এই সুযোগে ব্যাংকিং চ্যানে বাদ দিয়ে হুন্ডির দিকে ঝুকবে তাতে এই হাবাগুবা ফালতু দেশপ্রেমিকেরাও অতিরিক্ত টু পাইস কামানোর সুযোগ পাবে।

ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে হুন্ডিতে রেইট একটু বেশীই পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশীক মুদ্রা দেশে না গেলে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেরে যাবে এথেকেও প্রবাসীরা লাভবান হবে। যে ডলারের রেইট এখন ৮৫/৮৬ টাকা সে ডলারের রট তখন ১০০ টাকা হবে।

দেশে থাকা প্রবাসীদের আত্মীয় স্বজনও তুলনামূলক কম মূল্যে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারবে কারণ আমাদের দেশ আমদানি নির্ভর আর আমদানী কারকেরা সাধারণত আমদানী শুল্ক ফাকীদেয়ার জন্য আন্ডার ইনভয়েজে বিশ্বাসী। আন্ডার ইনভয়েজের বারতি মূল্য পরিষদের জন্য ব্যবসায়ীরা হুন্ডির উপর নির্ভরশীল। আন্ডার ইনভইয়েজের মাধ্যমে পণ্য আমদানী করতে পারলে স্বাভাবিক কারণেই বিক্রয় মূল্যের উপর ব্যবসায়ীরা কিছুটা ছাড় দিতে পারে।

পলায়ন পর সরকারী দলের নেতারা যারা ইতিমধ্যেই আখের গুছিয়ে ফেলেছে। যারা কালো টাকার পাহাড় গড়েছে। যারা বিদেশে সেকেন্ড হোমের আশায় টাকা পাচারের অপেক্ষায় আছে তাদের জন্য এক মোক্ষম সুযোগ সৃষ্টি করবে রেমিটেন্সের উপর ভ্যাট এবং ট্যাক্স।

তারা সহজেই হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসীদের উপার্জন প্রবাসেই নিয়ে নিবে আর তার বিনিময়ে দেশে থাকা তাদের পুঞ্জিভুত অর্থ প্রবাসীদের পরিবারকে দিয়ে দিবে এতে প্রবাসীরা যেমন ভ্যাট ট্যাক্স থেকে মুক্তি পাবে তেমনি সরকারী দলের পলায়নপর নেতাদের অর্থ পাচারের পথ সুগম হবে।

সরকারেরও লাভ আছে কারণ এত কিছুর পরেও আমার মত হাবাগোবা কিছু সত্যিকারের দেশ প্রেমিক বাধ্য হয়েই ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাবে আর সেই টাকায় সরকার ভাগ বসাবে।

এভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে প্রবাসীদের আয়ের উপর ভ্যাট ট্যাক্স বসাতে পারলে চতুর্মূখী লাভই লাভ!

একটা কথা থেকেই যায় যখন সবার লাভ তখন লস কার?

হ্যা লসেরও কটা পক্ষ অবশ্যই থাকবে আর তা হল আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি সোনার বাংলাদেশ।

সব শেষে একটা বাস্তব গল্প বলে শেষ করব সেটা হল আমার এক চাচাত ভাইয়ের মাথার স্ক্রু ঢিলা হয়ে গিয়েছিল তাই সে বাড়ির বড় বড় গাছগুলো বিক্রি করে স্বঘষিত চেয়ারম্যান হয়ে বসল।

প্রথমে সে গ্রাম সাফ করার কর্মসূচী নিল এবং যারাই তাকে চেয়ারম্যান বলত তাদেরকে চা সিগারেট খাওয়ান শুরু করল।

রাস্তার উভয় পার্শ্বের জঙ্গল সাফ করতে গিয়ে আগাছার সাথে মানুষের রোপিত ফলজ বৃক্ষও নিধন করে ফেল্ল। এ নিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা হল। বাধ্য হয়েই তাকে জনসেবামূলক এমন কর্মসূচী বাদ দিতে হল।

এর পর সে কয়েকটা ছাগল কিনে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। দালালেরা তার কাছ থেকে তার ক্রয় মূল্যের চেয়েও কম মূল্যে ছাগল গুলো কিনে নিল! তার পরে সে সেই টাকায় মুরগী কিনল এবং একই ভাবে ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে মুরগী বিক্রি করল। এভাবে একটার পর একটা জিনিস ক্রয় করতে থাকল এবং ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে তা বিক্রয় করতে থাকল যখন তার টাকা শেষ হয়ে গেল তখন সে দ্বিতীয় বার বাড়ির গাছ বিক্রি করতে গেল আর তখনই আমি ঢাকা থেকে দেশে গেলে তার মা, আমার কাছে এসে তাকে নিভৃত করার অনুরোধ করল।

যখন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম এমনটা কেন করছে তখন সে বলল এতে অনেক লাভ! যেমন রাস্তাঘাট পরিষ্কার করায় সাপ বিচ্ছু থেকে লোক রক্ষা পাবে। ফলের গাছ যেগুলো কাটা পরেছে সেগুলো ছিল দেশীয় জাতের তাই ওগুলো কেটে উচ্চফলনশিল চারা রোপণ করলে বেশী ফল পাওয়া যেত।

ছাগল কিনে যখন দেখল তার পূঁজি আটকে গেছে তাই লস দিয়ে ছাগল বিক্রি করে মুরগী কিনেছিল বেশী দামে বিক্রি করে ছাগলের লস পুষিয়ে নিতে আর এভাবেই সে কেনা বেচার কাজ জারি রেখেছিল। যখন পূঁজি শেষ হয়ে গিয়েছে তখনও সে লাভ দেখছে!

পূঁজি শেষ হয়ে যাওয়াই সে দ্বিতীয়বার বাড়ির বাকী গাছ বিক্রির পদক্ষেপ নিয়েছে কারণ এতেও লাভ আছে! বাড়ির সব গাছ বিক্রি করে সে নতুন করে গাছ লাগাবে এবং সেই গাছ বড় হবে এবং তা বিক্রি করে লাভ করবে।

ভাইয়ের লাভের এই কাহিনী শুনে আমিতো টাস্কি খেলাম এবং চাচীকে বললাম সম্ভব হলে তাকে বিয়ে করিয়ে দেন যদি তাতে কিছু লাভ হয়। শেষ পর্যন্ত বিয়ে করিয়ে দিলে সে যাত্রায় তার গাছ বিক্রির বাতিখ মাথা থেকে নেমেছিল।

মাল মুহিতকে সেরকম কিছু করে রেমিটেন্সের উপর ট্যাক্স বসানর মত আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা যায় কি না তা দেশের স্বচেতন জনগণের ভেবে দেখা দরকার। তাকে বিয়েতে রাজি না করানো গেলে যুবলীগ নেতা রণীর মত তার গাড়িতে কোন ভারতীয় ব্রান্ডের পতিতা বা ডল ঢুকিয়ে দিয়ে রাস্তায় গণ থ্রাপি দেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার।

abu jarir

Related posts

Leave a Comment

%d bloggers like this: